এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা ফেব্রুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে আগের মতো ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন এই মেলা উদ্বোধন হবে না। ২১ ফেব্রুয়ারির আগে সুবিধাজনক একটি দিনে মেলা শুরু হবে।

প্রকাশকেরা আজ বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে প্রকাশক ও বাংলা একাডেমির প্রতিনিধিদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ঠিক হয়, একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালে স্বাভাবিক বইমেলার আয়োজন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ।

গত বৃহস্পতিবার একাডেমির কাউন্সিল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আজ একাডেমির পক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে সে প্রস্তাব দেওয়ার কথা ছিল।গতকাল শনিবার বাংলা একাডেমির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় মেলার অংশীজন প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুই সংগঠন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

এর আগে গত শুক্রবার করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আগামী বছর ১ ফেব্রুয়ারি ভার্চ্যুয়াল অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজনহতে পারে বলে জানিয়েছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এ সময় তিনি আরও জানান, পাঠকদের মধ্যে বইমেলা নিয়ে যেন কোনো সংশয় তৈরি না হয়, সে কারণে বিকল্প হিসেবে ভার্চ্যুয়াল আয়োজনের কথা তাঁরা ভেবেছিলেন।গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

আরও দেখে আস্তে পারেন: ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির আবেদন।

উভয় সমিতির দুই সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ও ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ একতরফা মিটিংয়ে আসন্ন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ বইমেলার সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা পর্ষদ’ বিষয়টি ওয়াকিবহাল নয়। এ ছাড়া প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুই সংগঠন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির কারও সঙ্গেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে এবারও বইমেলা হবে। উদ্বোধন হবে ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই। আমরা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের প্রস্তাব অনুযায়ী পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি মিলে একটি তারিখ ঠিক করে লিখিতভাবে বাংলা একাডেমিকে দেব।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘প্রকাশকেরা তাঁদের দাবি নিয়ে এসেছিলেন। আমিপ্রকাশকদের পরামর্শ দিয়েছি, তাঁরা নিজেরা আলোচনা করে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একটি তারিখ উল্লেখ করে আমাদেরলিখিতভাবে জানাক। সে তারিখ সামনে রেখে আমাদের দুই মাসের সময় দিলে আমরা মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি নেব।’প্রসঙ্গত, ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকেই বাংলা একাডেমি চত্বরে বইমেলা শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এ বইমেলার উদ্বোধন করে থাকেন।

১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে একটি বড় জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন হয়েছিল।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সে উপলক্ষে সাত-আটজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়াল ঘেঁষে বই সাজিয়ে বসেছিলেন। সে বছরই প্রথম বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রের বাইরে অন্য প্রকাশকদের বই বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।১৯৮৩ সালে মনজুরে মওলা যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন, তখন তিনি বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়।

বাংলা একাডেমির তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। নতুন বইপ্রকাশিত হয়েছিল ৪ হাজার ৯১৯টি। বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছিল ৪১টি নতুন বই।

আরও বিস্তারিত জানতে এখানে প্রশ্ন করুন

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments